নিউইয়র্ক টাইমস সে সময়ের প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, প্রায় ৫০ জন নারী পুরুষদের বিষ প্রয়োগের অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন। ১৯১১ থেকে ১৯২৯ সালের মধ্যে নাগিরেভ গ্রামে আর্সেনিক দিয়ে ৫০ জনেরও বেশি পুরুষকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে। এই নারীরা পরবর্তীতে ‘এঞ্জেল মেকার’ নামে কুখ্যাত হয়ে ওঠেন।
এই মামলায় বারবার উঠে আসে গ্রামের ধাত্রী ঝুঝানা ফাজেকাশের নাম। চিকিৎসা ও ঔষধি বিষয়ে জ্ঞান থাকায় তিনি কার্যত চিকিৎসকের ভূমিকায়ও কাজ করতেন। নারীরা যখন মাতাল বা হিংস্র স্বামীদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অভিযোগ করতেন, তখন তিনি তাদের “সহজ সমাধান” হিসেবে আর্সেনিক দিতেন।
পরীক্ষা করা ৫০টি মৃতদেহের মধ্যে ৪৬টিতেই আর্সেনিক পাওয়া যায়। পুলিশ যখন তাকে গ্রেপ্তার করতে যায়, তখন ফাজেকাশ নিজেই বিষপান করে আত্মহত্যা করেন।
১৯২৯ সাল থেকে সলনোকে ২৬ জন নারীকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। আটজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দোষ স্বীকার করেন খুব কমসংখ্যক নারী, তবে উদ্দেশ্য নিয়ে নানা তত্ত্ব উঠে আসে— দারিদ্র্য, লোভ, একঘেয়েমি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
আন্দাজ করা হয়, কেবল নাগিরেভেই নয়, আশপাশের অঞ্চলেও এভাবে প্রায় তিনশোর বেশি পুরুষ মারা যেতে পারে। যদিও সময়ের সাথে এই ভয়ংকর ইতিহাস মুছে গেছে, কিন্তু একসময় এই গ্রাম পুরুষদের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছিল। স্থানীয়দের মতে, ওই ঘটনার পর পুরুষদের আচরণে নারীদের প্রতি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে।
0 Comments