সাম্প্রতিক অভিযানে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড শতাধিক ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও একাধিক দালালকে গ্রেফতার করেছে। বিশেষত শীত মৌসুমে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে পাচারকারীরা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়। এরই মধ্যে টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় গড়ে তোলা গোপন আস্তানা থেকে দুই সপ্তাহে ১৮৭ জনকে উদ্ধার ও ১৬ দালালকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এক লাখ ২০ হাজার মানুষ এভাবে পাচারের শিকার হয়েছিলেন। অনাহার ও নির্যাতনে মারা গেছেন শতাধিক মানুষ। ভুক্তভোগীরা জানান, পাচারের প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপে হাতবদল করা হয়, আর মাথাপিছু কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে দালালচক্র।
বর্তমানে মূল টার্গেট রোহিঙ্গারা। অন্তত ৫০টির বেশি দালালচক্র উখিয়া-টেকনাফ ক্যাম্পে সক্রিয়। অনেক রোহিঙ্গা নারী স্বামীর কাছে পৌঁছাতে গিয়ে এই চক্রের ফাঁদে পড়ছেন। নিয়মিত ট্রলারডুবি ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
বিজিবি, র্যাব ও পুলিশ মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকলেও স্থানীয়রা বলছেন, চক্রগুলো দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এদের দমন না করা গেলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে।
0 Comments