ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

কোরআনের বিধান পরিবর্তন ও নাসখের নেপথ্যে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা

কোরআনের বিধান পরিবর্তন ও নাসখের নেপথ্যে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা

ইসলাম ধর্মে একসময় কার্যকর কোনো বিধানের স্থলে পরবর্তী ওহির মাধ্যমে অন্য বিধান আসার প্রক্রিয়াকে ‘নাসখ’ বা রহিতকরণ বলা হয়। এর আভিধানিক অর্থ অপসারণ, পরিবর্তন বা এক বস্তুর স্থলে অন্য কিছু প্রতিস্থাপন। পারিভাষায় নাসখ হলো পূর্ববর্তী কোনো বিধানের কার্যকারিতা পরবর্তী দলিলের মাধ্যমে সমাপ্ত হওয়া। আল্লামা ইবনে কাসিরের তাফসিরুল কুরআনিল আজিম এবং অন্যান্য ইসলামি গ্রন্থ অনুযায়ী, বিধান রহিত করা আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছার অধীন। মানুষের সামর্থ্য, সামাজিক বাস্তবতা এবং বান্দার কল্যাণ বিবেচনা করে শরিয়তের বিধান পরিবর্তন করা হয়। সুরা বাকারার ১০৬ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, আল্লাহ কোনো আয়াত রহিত করলে বা ভুলিয়ে দিলে তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসেন। রহিতকরণের প্রক্রিয়াটিকে আলেমরা প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করেছেন। প্রথমত, তেলাওয়াত বহাল থাকে কিন্তু বিধান রহিত হয়। দ্বিতীয়ত, পাঠ্যরূপ রহিত হয় কিন্তু বিধান বহাল থাকে। তৃতীয়ত, পাঠ্যরূপ ও বিধান উভয়ই রহিত হয়। বিধান রহিত হওয়ার পেছনে অন্যতম তাৎপর্য হলো মানুষকে ক্রমান্বয়ে বড় পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করা। মদ হারাম হওয়ার ধাপগুলো এর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এ ছাড়া কিবলা পরিবর্তনও আয়াত রহিত করার অন্যতম শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত। রাসুল (সা.) ও সাহাবিরা প্রথমে বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করলেও পরে আল্লাহর নির্দেশে কাবা শরিফ মুসলমানদের কিবলা নির্ধারিত হয়। ইসলামি পন্ডিতদের মতে, মানুষের জ্ঞান সীমিত হলেও আল্লাহর জ্ঞান অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে পরিব্যপ্ত করে। তাই কোনো বিধান রহিত হওয়ার দাবি করার আগে কোরআন, হাদিস ও নির্ভরযোগ্য ইসলামি দলিলের আলোকে তা যাচাই করা জরুরি। নিজ যুক্তি বা পরিস্থিতির অজুহাতে কোরআনের কোনো বিধানকে রহিত ঘোষণা করা যায় না। ফয়জুল্লাহ রিয়াদ, যিনি ঢাকার জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ীর শিক্ষক, তার আলোচনায় এসব বিষয় উঠে এসেছে।

সংক্ষেপে:
ইসলামে কোরআনের বিধান পরিবর্তন বা নাসখ প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে আল্লাহর গভীর প্রজ্ঞা ও বান্দার কল্যাণ। বিধান রহিতের স্বরূপ এবং এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
কোরআনের বিধান পরিবর্তন ও নাসখের নেপথ্যে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা

0 Comments