ইরানের অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এমন পদক্ষেপ এড়িয়ে চলতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে এবং সে বিষয়ে খুব দ্রুতই জানা যাবে বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানের অবকাঠামো পুনর্গঠনে অন্তত পঁচিশ বছর সময় প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বাধ্য না করলে তিনি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না। গত আট মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র যা নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল, তার সবকিছুই এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত ছাড়া তেহরান এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য। কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অভিযোগ করেন, প্রায় নয় কোটি জনসংখ্যার একটি রাষ্ট্রকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। ডেমোক্র্যাটদের এই যুদ্ধ অবসানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য এবং সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের একক এখতিয়ার কেবল রাষ্ট্রপতির নয়। যুদ্ধ পরিচালনার বাজেট বা অর্থ বরাদ্দ অনুমোদনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, আইনপ্রণেতারা চাইলে এই তহবিলের প্রবাহ বন্ধ করে সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রো বলেন, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার করদাতার অর্থ ব্যয় হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও দুই দলের বড় একটি অংশ এই যুদ্ধের ইতি টানতে চায় বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক হুমকির জেরে ইরান সংঘাত ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার হুশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা।


0 Comments