দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের সাথে নতুন একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। চুক্তি অনুযায়ী, রোপণ মৌসুমে কৃষকদের মাঝে সার সহজলভ্য করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ প্রদান করবে বিশ্বব্যাংক, যা বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় তিন হাজার সাতশ কোটি টাকার সমান। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গত সোমবার এই তথ্য জানানো হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে অংশ নেন সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটানের পরিচালক জ্যঁ পেম।জরুরি খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন মেয়াদের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে অর্থ বিভাগ। এছাড়া বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রকল্পটির কার্যক্রমে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোপণ মৌসুমে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে ক্ষুদ্র পর্যায়ের কৃষকদের জন্য সার প্রাপ্তি সহজ করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন সচল রাখা এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখাই এর উদ্দেশ্য।চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংকের এই ঋণ পরিশোধের জন্য ২৫ বছর সময় পাবে বাংলাদেশ এবং এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে গণ্য হবে, যে সময়ে মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জ্বালানি খাত এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিভিন্ন কার্যক্রমেও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন রয়েছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই নতুন ঋণের অর্থ কৃষিখাতের প্রধান উপকরণ সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ ও বাজার ব্যবস্থার চাপ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের সাথে প্রায় তিন হাজার সাতশ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।


0 Comments