ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

শর্ত ছাড়া ব্যবসার জন্য অর্থ দাবি যৌতুকের সংজ্ঞায় পড়ে না, হাইকোর্টের রায়

শর্ত ছাড়া ব্যবসার জন্য অর্থ দাবি যৌতুকের সংজ্ঞায় পড়ে না, হাইকোর্টের রায়

বিয়ের সময় কিংবা বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় রাখার শর্ত ছাড়া কেবল ব্যবসার উদ্দেশ্যে অর্থ দাবি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় যৌতুকের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি এক আপিলের ওপর দেওয়া রায়ে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করে মো. রাসেল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. সেলিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। সম্প্রতি ১২ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। মামলায় আপিলকারীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী আল রেজা মো. আমির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দায়িত্ব পালন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন। আইনজীবী আল রেজা মো. আমির জানান, কনেপক্ষের কাছে কেবল ব্যবসার জন্য অর্থ দাবি করলে তা যৌতুক হিসেবে ধরা যায় না বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ের সময় অথবা সংসারজীবন চলাকালে অর্থ দাবি করা হলে এবং সেই অর্থ না দিলে বিবাহবিচ্ছেদের হুমকি বা সংসার না চালানোর শর্ত দেওয়া হলেই কেবল তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হয়। এর বাইরে কোনো শর্ত ছাড়াই ব্যবসা, বিদেশ গমন বা গাড়ি কেনার জন্য অর্থ চাওয়া হলে তা যৌতুকের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয় না। মামলা সূত্রে জানা যায়, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মো. রাসেল উদ্দিন ও ইসমত আরা বেগমের বিয়ে হয়। স্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে তাঁর কাছে যৌতুক দাবি করা হতো। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন রাসেল। ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়। এই ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় মামলা করেন স্ত্রী। কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর রায় ঘোষণা করেন। রায়ে রাসেল উদ্দিনকে দোষী সাব্যস্ত করে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন রাসেল। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২(ঞ) ধারা অনুযায়ী বিয়ের শর্ত হিসেবে অথবা দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখার শর্তে বর বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অর্থ বা সম্পত্তি দাবি করা হলে তাকে যৌতুক বলা হয়। বর্তমান মামলায় দেখা গেছে, আপিলকারী স্ত্রীর কাছে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক লাখ টাকা চেয়েছেন। তবে ঘটনার সময় তিনি যৌতুক হিসেবে এই অর্থ দাবি করেছিলেন তা প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া রায়ে বলা হয়েছে, কথিত মারধরের স্থান নিয়ে অভিযোগকারীর মৌখিক বক্তব্য, চিকিৎসক ও চিকিৎসা সনদের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এসব অসঙ্গতি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়নে ট্রাইব্যুনালের ব্যর্থতার কারণে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার রায় বাতিল করে রাসেল উদ্দিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সংক্ষেপে:
শর্ত ছাড়া ব্যবসার উদ্দেশ্যে অর্থ দাবি করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের যৌতুকের সংজ্ঞায় পড়ে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফৌজদারি এক আপিলের রায়ে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
শর্ত ছাড়া ব্যবসার জন্য অর্থ দাবি যৌতুকের সংজ্ঞায় পড়ে না, হাইকোর্টের রায়

0 Comments