দেনমোহর পাওয়ার জন্য কোনো নারীকে তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর আগপর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না বলে একটি মামলায় পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন দেওয়ানি রিভিশন মামলায় গত ৩ সেপ্টেম্বর এই রায় দেন। ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিমের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, দ্রুত দেনমোহর আদায়ের জন্য স্ত্রীকে আদালতের শরণাপন্ন হতে হলে এবং পরিশোধের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্বামী দিতে বিলম্ব করলে, বিচারিক আদালত স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন। পবিত্র কোরআনের সুরার আয়াত উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়েছে, মোহর স্ত্রীর একটি আর্থিক ও স্বতন্ত্র অধিকার এবং এটি বিয়ে থেকে তৈরি হওয়া বাধ্যবাধকতা। ইসলামি আইনের নীতিমালার ভিত্তিতে আদালতের দেনমোহরের অংশ মওকুফ বা কমিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার নেই। তবে স্ত্রী স্বেচ্ছায় তা ত্যাগ বা মওকুফ করতে পারেন। ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির মধ্যে মনোমালিন্যের জেরে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। স্ত্রী চট্টগ্রাম পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করলে আদালত ২০২২ সালের ৫ মে স্বামীকে ডিক্রির অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেন। পরে অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে স্বামী হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল খারিজ করে রায় দেন এবং বকেয়া দেনমোহর ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার প্রাপ্য ভরণপোষণের সব বকেয়া পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। শুনানিতে থাকা আইনজীবী ইশরাত হাসান জানান, দেনমোহরের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও স্বামী হয়রানি করলে বিচারিক আদালত ক্ষতিপূরণের আদেশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখেন।
দেনমোহর পরিশোধে সক্ষম হয়েও স্বামী তা দিতে বিলম্ব করলে স্ত্রীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে আদালত। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে।

0 Comments