জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কার প্রতিবাদে রাজধানীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। খতিবকে অপসারণের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর হাত রয়েছে এমন অভিযোগ এনে জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন কিছু মুসল্লি। ওই সময় বিক্ষুব্ধরা জামায়াতবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে খতিবকে অপসারণের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যৌথ নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন ব্যক্তি বলেন, বর্তমান খতিব মুসলমানদের অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র এবং তিনি মিম্বারে বহাল থেকে নিয়মিত নামাজ পরিচালনা করবেন। তার মতে, ইসলাম নির্দিষ্ট কোনো দলের নয় বরং এটি মহান আল্লাহর এবং তৌহিদপন্থি মুসলমানদের। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ অতীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনোটিতে জয়লাভ করতে পারেনি। এর আগে বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একটি অংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে ভেড়ার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। তার ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও আলেম সমাজের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তা আলোচনার জন্ম দেয়। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে বলতে শোনা যায় যে, কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়া একটি পথভ্রষ্টতা। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতের লোগোতে ব্যবহৃত ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। খতিবের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র আকার ধারণ করে, যার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের প্রতিবাদে জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ করেছেন মুসল্লিরা।


0 Comments