প্রেম, বিষাদ এবং নাগরিক জীবনের নানামুখী অনুভূতির মেলবন্ধনে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ কবিতা। দশটি পৃথক পর্বে বিভক্ত এই রচনায় মাশরেফা নামের এক চরিত্র কিংবা প্রতীককে উপজীব্য করে আত্মিক উপলব্ধি ও জাগতিক টানাপোড়েনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
কবিতার বিভিন্ন অংশে ঢাকার কার্জন হল, পুরান ঢাকার আগামসি লেন এবং টিকাটুলির মতো চেনা অনুষঙ্গ রূপক হিসেবে এসেছে। রচনার সূচনায় বাস্তবতার কঠোর রূপ তুলে ধরে ভালোবাসা ও যন্ত্রণার গভীর পাঠ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে উঠে এসেছে স্মৃতিকাতরতা, নাগরিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং একাকিত্বের মাঝে প্রিয় অস্তিত্বকে খুঁজে ফেরার আকাঙ্ক্ষা। আগামসি লেনের তন্দুরি রুটি কিংবা মেঘের ভেতর দিয়ে পাখির উড়ে যাওয়ার মতো দৈনন্দিন দৃশ্যকল্পের ভেতরেও গভীর ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে।
একপর্যায়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার বিস্তৃতি, হাওরে উড়ন্ত পাখির স্বাধীনতা এবং মানুষের সম্পর্কের মাঝের অদৃশ্য দেয়াল ভেঙে পড়ার বিষয়গুলো রূপক হিসেবে চিত্রিত হয়েছে। সবশেষে মাশরেফাকে একটি নিভৃত পালক কিংবা নদীর পলির মতো পরম মমতায় সাধারণের দৃষ্টির আড়ালে আগলে রাখার অভিব্যক্তিতে পরিসমাপ্তি ঘটে এই সাহিত্যকর্মের।
প্রেম, বিরহ আর নাগরিক নিঃসঙ্গতার আবহে মাশরেফাকে ঘিরে প্রকাশিত হয়েছে একটি বিশেষ কাব্যগাঁথা। কার্জন হল থেকে পুরান ঢাকার আগামসি লেনের স্মৃতিকাতরতায় ধরা দিয়েছে গভীর অনুভূতির নানা দিক।


0 Comments