টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোনো ধরনের পানিপ্রবাহ না থাকা সত্ত্বেও একটি পরিত্যক্ত ডোবার ওপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ এই উদ্যোগকে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সওজ ও দরপত্র সূত্রে জানা গেছে, ৩৮ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি-পিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে ‘তূর্ণ এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রস্তাবিত এলাকায় কোনো নদী বা খালের অস্তিত্ব নেই এবং গত প্রায় ৫০ বছর ধরে সেখানে কোনো পানিপ্রবাহ নেই। বর্তমানে স্থানটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং সেখানে অসংখ্য ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সভাপতি শেখ শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক ও ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয়দের দাবি, সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই কেবল কাগজ-কলমের রিপোর্টের ভিত্তিতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, সেতু না করে স্থানটি মাটি ভরাট করে সড়ক সোজা করলে দুর্ঘটনা কমত এবং সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হতো। কালিহাতী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আবুল মনছুর বলেন, বর্তমান সেতুর ত্রুটিপূর্ণ বাঁকের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এখানে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করলে যানজটমুক্ত পরিবেশ তৈরি হতো।
তবে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান জানান, সরকারের ‘ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং’ (বিএমডব্লিউ)-এর নিয়মিত পরিদর্শন ও কারিগরি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই সেতু পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই নকশা অনুমোদন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গত ৭ আগস্ট স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন এই নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছিলেন।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে পানিহীন এক পরিত্যক্ত ডোবার ওপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। একে রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ।


0 Comments