জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাত শীর্ষ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। মামলাটিতে গত ১৮ আগস্ট যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করে ১৫ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
এদিকে রায় ঘোষণার দিনেই রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পৃথক ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির প্রবেশপথের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেননি। পরবর্তীতে রাত পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পাশে আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। এসব বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুরে একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানায়, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বাসটিতে আগুন লাগে। বসিলা ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এদিকে রাজধানীতে পৃথক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।


0 Comments