রাজধানীর সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহকে (২৭) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আল আমিন হোসেন (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)। সোমবার দিবাগত রাত ও মঙ্গলবার ভোরে খিলগাঁও থানার পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সিফাত প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে ফেরেন। একটি মেয়ের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। অন্যদিকে সাজিদ নামের ওই যুবকের সঙ্গেও ওই তরুণীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। গত ২৫ আগস্ট এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সিফাতের সঙ্গে তরুণীর সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন সাজিদ। এছাড়া আল আমিন নামের ওই যুবক ওই তরুণীর পূর্বপরিচিত এবং এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। আল আমিন ও তাঁর সহযোগীরা ওই তরুণীর বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন, যা সিফাত পছন্দ করতেন না এবং তাঁদের সেখানে যেতে নিষেধ করেছিলেন। এই বিষয়গুলো নিয়ে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই ক্ষোভ ছিল।
র্যাব আরও জানায়, গত রোববার বিকেলে মাদারটেকের বরইতলা এলাকায় ওই তরুণীর বাসায় সিফাত দেখা করতে গেলে আল আমিনের সহযোগীরা সেখানে উপস্থিত হন। সেখানে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিফাত মোটরসাইকেলে করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আসামিরা তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন এবং মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা মেডিকেল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। প্রেমঘটিত বিরোধ ও মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।


0 Comments