ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

বকশীবাজারে ছাত্রদল ও শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা, অধ্যক্ষকে মারধর

বকশীবাজারে ছাত্রদল ও শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা, অধ্যক্ষকে মারধর

রাজধানীর বকশীবাজার এলাকায় সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মাদ্রাসার একমাত্র আবাসিক হল আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলের নিয়ন্ত্রণ নেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে বেলা তিনটার দিকে আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরবর্তীতে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে কয়েকশ নেতা-কর্মী মাদ্রাসার হলে প্রবেশ করেন। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে মারধর করেন কয়েকজন নেতা-কর্মী। এরপর হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। হলের ফটকে তালা লাগানোর সময় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলকর্মী মো. ইব্রাহীম জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে হলটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান জানান, হামলায় তাদের ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফুয়াদ নামে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা সাদ চৌধুরী দাবি করেছেন, শিবিরের হামলায় তাদের ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।

এর আগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সভাপতি আবদুল আলিম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অতর্কিতভাবে হলে ঢুকে তাদের মারধর ও কক্ষে তালা দেয়। তবে ছাত্রদল নেতা সাদ চৌধুরীর দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে শিবির হল দখল করে রেখেছিল এবং বহিরাগতদের এনে ছাত্রদলের কক্ষে তালা দিয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন থাকলেও শুরুতে তাদের সংখ্যা কম থাকায় সংঘর্ষ থামাতে বেগ পেতে হয়।

সংক্ষেপে:
রাজধানীর বকশীবাজারে ছাত্রদল ও শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা। অধ্যক্ষকে মারধর ও আবাসিক হলে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বকশীবাজারে ছাত্রদল ও শিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র আলিয়া মাদ্রাসা এলাকা, অধ্যক্ষকে মারধর

0 Comments