জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। দুই দেশের অভিযোগ, বেয়ারবক মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করছেন।
জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বেয়ারবকের ভূমিকাকে বিতর্কিত বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেনিফার লোসেটা একে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মহাসচিব নির্বাচনে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশই চূড়ান্ত, কিন্তু বেয়ারবক প্রার্থীদের প্রকাশ্য শুনানি ও সাধারণ পরিষদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করছেন। লোসেটা আরও অভিযোগ করেন, বেয়ারবক নিজেকে একজন কূটনৈতিক সুপারস্টার হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন, যা সাধারণ পরিষদের কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ হয়গেন এই সমালোচনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এটি মূলত নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রতিফলন। বেয়ারবক একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছেন, যা নিয়ে দুই পরাশক্তি অসন্তুষ্ট।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে বেয়ারবকের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। গত নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে তিনি সাধারণ পরিষদের পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব পালন করবেন। অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ভবিষ্যতে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিদায়ী সভাপতি বেয়ারবক খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে একে বিশ্বের অন্যতম সেরা দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকের ভূমিকার সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। আগামী সেপ্টেম্বরে এই পদে দায়িত্ব নিচ্ছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান।


0 Comments