২০০৮ সালের একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের প্রতিনিধিদের স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। নিজের প্রতিষ্ঠানের তৈরি ব্যাটারি কতটা নিরাপদ তা প্রমাণ করতে ব্যাটারির তরল পান করেছিলেন এক ব্যক্তি। তিনি আর কেউ নন, বর্তমান বিশ্বের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডির প্রতিষ্ঠাতা ওয়াং চুয়ানফু। এই ঘটনার পরেই বাফেট বিওয়াইডিতে বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়াং চুয়ানফুর এই সাফল্যের পথ ছিল অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। ১৯৬৬ সালে চীনের আনহুই প্রদেশের এক অতি দরিদ্র কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবা এবং ১৫ বছর বয়সে মাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়েন তিনি। বড় ভাই ও মেজ বোনের অসামান্য ত্যাগের বিনিময়ে তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। রসায়ন ও ব্যাটারি প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে ১৯৯৫ সালে আত্মীয়ের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বিওয়াইডি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এটি ছিল মুঠোফোনের রিচার্জেবল ব্যাটারি তৈরির একটি ছোট কারখানা।
জাপানি কোম্পানিগুলোর ব্যয়বহুল রোবট নির্ভরতার বিপরীতে ওয়াং দক্ষ শ্রমিক ও নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতির কৌশল বেছে নেন। ২০০৩ সালে একটি দেউলিয়া গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিনে তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির পথে পা বাড়ান। তাঁর উদ্ভাবিত 'ব্লেড ব্যাটারি' প্রযুক্তি এখন এতটাই নির্ভরযোগ্য যে খোদ টেসলাও তাদের কিছু মডেলে এটি ব্যবহার করছে। ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে বিক্রির দিক থেকে ইলন মাস্কের টেসলাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের এক নম্বর ইভি নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিওয়াইডি।
ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত সাধারণ ও প্রচারবিমুখ ওয়াং চুয়ানফুকে ব্লুমবার্গ 'অ্যান্টি-ইলন মাস্ক' হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তিনি আজও কারখানার সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার খান এবং বিদেশ ভ্রমণে নিজের ব্যাগ নিজেই বহন করেন। বর্তমানে বিওয়াইডি ২০২৭ সালের মধ্যে চালকবিহীন গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
এতিম কিশোর থেকে বিশ্বের শীর্ষ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা হয়ে ওঠার এক রোমাঞ্চকর গল্প ওয়াং চুয়ানফুর। বিওয়াইডি প্রতিষ্ঠাতা এই ধনকুবেরের জীবন সংগ্রাম ও সাফল্যের বিস্তারিত জানুন।


0 Comments