চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদক নির্মূল ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৬ জন মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার বিকেলে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের হালসানা মোড়ে জীবননগর থানার উদ্যোগে এই মাদকবিরোধী সমাবেশ ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। তিনি তার বক্তব্যে মাদককে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করেন। পুলিশ সুপার বলেন, কেবল আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। যারা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাদের সমাজের মূলধারায় আসার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তবে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
অনুষ্ঠানে আত্মসমর্পণকারী ১৬ জন ব্যক্তিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। তারা ভবিষ্যতে সব ধরনের মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে সৎ ও সুস্থ জীবনযাপনের শপথ গ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তারা মাদক ছাড়াও চুরি, ডাকাতি, চোরাচালান, মানবপাচার, কিশোর গ্যাং ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন এবং এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার তাগিদ দেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ মনে করে, অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাদকবিরোধী সমাবেশে ১৬ জন মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


0 Comments