টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নে অপহরণ ও ডাকাতির আতঙ্কে পাহাড়ি জনপদের বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের ভিটেমাটি ছেড়ে অনেকে এখন টেকনাফ শহর বা সড়কসংলগ্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। বাহারছড়া ইউনিয়নের পল্লী চিকিৎসক মো. রফিক জানান, অপহরণ ও ডাকাতির ভয়ে তিনি গত তিন মাস ধরে পরিবার নিয়ে টেকনাফ শহরে ভাড়া বাসায় থাকছেন। তার দাবি, নিজের ও পরিবারের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তিনি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, তার ওয়ার্ড থেকেই অন্তত ৩০টি পরিবার আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, দিনের বেলাতেও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বাড়িতে ঢুকে মানুষ অপহরণ করছে এবং মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহও একই ধরনের শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, এলাকায় নিয়মিত গোলাগুলি ও অপহরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিনি দ্রুত যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করার দাবি জানান। তবে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, ঢালাওভাবে এলাকা ছাড়ার তথ্য সঠিক নয়। তিনি বলেন, মাত্র দুই-তিনটি পরিবার পাহাড়ের ভেতর থেকে সড়কের পাশে চলে এসেছে। অতিরঞ্জিত তথ্য মানুষকে আরও আতঙ্কিত করছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও জানান, নিয়মিত টহল চলছে এবং সেখানে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী জানান, সন্ত্রাসীদের দমনে বড় পরিসরে যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এলাকাটিকে নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
টেকনাফের বাহারছড়ায় অপহরণ ও ডাকাতির আতঙ্কে বাড়িঘর ছাড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরাপত্তাহীনতায় থাকা এসব পরিবার এখন শহর বা নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।


0 Comments