বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ আশঙ্কাজনক হারে গলতে শুরু করেছে, যা বিশ্বের বড় মেগাসিটিগুলোর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে জানিয়েছেন, গত এক শতাব্দীতে মহাসাগরগুলো গত ১১ হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়েছে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ড থেকে শত শত বিলিয়ন টন বরফ গলে সাগরে মিশছে।
এই পরিস্থিতির কারণে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা শহরটি প্রতি বছর প্রায় ১০ সেন্টিমিটার করে দেবে যাচ্ছে, যার ফলে দেশটি তাদের রাজধানী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া ইতালির ভেনিস, ভারতের মুম্বাই এবং চীনের সাংহাইয়ের মতো শহরগুলোও সমুদ্রের লোনা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটে বাংলাদেশ অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী দেশ। আইপিসিসি-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূখণ্ড পানির নিচে চলে যেতে পারে। বুয়েটের গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হার বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি। ইতোমধ্যে খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সাতক্ষীরার শেফালী বিবির মতো হাজারো মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে জলবায়ু শরণার্থী হিসেবে রাজধানী ঢাকায় আশ্রয় নিচ্ছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সীমা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করলে তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ‘মৃত্যুদণ্ড’ হিসেবে গণ্য হবে। এই বিপর্যয় রোধে কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈশ্বিক উষ্ণতায় গলছে মেরুর বরফ। ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১৭ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জাকার্তা ও ভেনিসের মতো মেগাসিটিগুলোও ঝুঁকিতে। এখনই সচেতন না হলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে অনেক জনপদ।


0 Comments