চট্টগ্রামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) নতুন কার্গো পৌঁছানোর পর সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় গাড়িচালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আবাসিক ও শিল্প খাতে এখনো চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত গ্যাস মিলছে না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ২৭ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে আরও একটি এলএনজি কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। নতুন এই কার্গো থেকে সরবরাহ শুরু হলে গ্যাস সংকট আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। কেজিডিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে প্রতিদিনের স্বাভাবিক চাহিদা ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। এক সপ্তাহ আগে সরবরাহ ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২০০ থেকে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় এখনো প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়ে গেছে। এদিকে মহেশখালীর এক্সিলারেট টার্মিনাল চালু হওয়ায় গত শনিবার থেকে সংকট কিছুটা কাটতে শুরু করেছে। বুধবার সকাল থেকে নগরীর কদমতলীসহ বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশনে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দেখা গেলেও গ্যাসের চাপ কম থাকায় চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, আবাসিক গ্রাহকরা রান্নাবান্না নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক কারখানা স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারেনি। প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর রাষ্ট্রায়ত্ত চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। যন্ত্রপাতি পরীক্ষা শেষে আগামী ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কারখানাটি উৎপাদনে যেতে পারে। শিল্পমালিকদের দাবি, সাময়িকভাবে সরবরাহ বাড়লেও গত এক মাসের সংকটে উৎপাদন ও আর্থিক পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লেগেছে। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. আমিরুল হক জানান, পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এতে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও পর্যাপ্ত চাপ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামে এলএনজি কার্গো পৌঁছানোয় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। সিএনজি স্টেশনে স্বস্তি ফিরলেও আবাসিক ও শিল্প খাতে এখনো গ্যাসের চাপ কম। দ্রুত সংকট সমাধানের আশা কেজিডিসিএলের।


0 Comments