রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে (বর্তমানে শহীদ আবরার ফাহাদ অ্যাভিনিউ) সংঘটিত ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ২২তম বার্ষিকী আজ পালিত হচ্ছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে এই বর্বরোচিত হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুই মামলায় অভিযুক্তরা উচ্চ আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে সব আসামিকে খালাস দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে খালাসের রায় বহাল রাখেন। আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, তথ্যপ্রমাণ ও আইনি দিক পর্যালোচনায় হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে কোনো দুর্বলতা বা বেআইনি কিছু পাওয়া যায়নি।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এই ঘটনার নতুন তদন্ত শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১১ সালে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করা হয়। ২০১৮ সালে বিচারিক আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। তবে হাইকোর্ট সম্পূরক অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই বিচারকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় বাতিল করেন। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকে ন্যায়সংগত হিসেবে বহাল রাখেন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ২২তম বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই ভয়াবহ হামলায় ২৪ জন নিহত হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আপিল বিভাগ সব আসামিকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন।

0 Comments