ইয়েমেনের মারিব শহরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দেশটিতে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সরকারের এক সামরিক মুখপাত্র জানান, বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হুথিদের সামরিক সক্ষমতা ও সেনাদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন দিক থেকে এই অভিযান চালানো হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হাজরামাউত ও মারিব প্রদেশে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩০ জন সরকারি সৈন্য নিহত এবং ১৫ জন আহত হন। সেই ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবেই এই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
ইয়েমেনের উপ-তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ গেজান অভিযোগ করেছেন, হুথিরা মারিবের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় পুনরায় গোলাবর্ষণ শুরু করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, শুক্রবারের হামলায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, মারিব শহরে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন।
এদিকে হুথিদের দাবি, তারা একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। তাদের অভিযোগ, সরকারি বাহিনী সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে বড় কোনো অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ কেন্ডাল মনে করেন, এই উত্তেজনার ফলে ইয়েমেন আবারও বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
ইয়েমেনের মারিব শহরে হুথিদের ওপর সরকারি বাহিনীর পাল্টা হামলায় নতুন করে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও পূর্ববর্তী হামলার জবাবে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


0 Comments