কলকাতার নিউমার্কেট সংলগ্ন মীর্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাতজন বাংলাদেশি পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ওই এলাকার হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতি এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে গেস্টহাউস পরিচালনা এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। চিকিৎসা ও কেনাকাটার উদ্দেশ্যে আসা বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে সদর স্ট্রিট, মার্কুইস স্ট্রিট ও মীর্জা গালিব স্ট্রিট এলাকাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে মঙ্গলবার রাতের এই অগ্নিকাণ্ড পর্যটকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক আবাসিক ভবনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে হোটেলে রূপান্তর করা হয়েছে যেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বা জরুরি বহির্গমন পথ নেই। অর্থের বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের নিয়মকানুন উপেক্ষা করারও অভিযোগ উঠেছে। সোহেল নামের এক বাংলাদেশি পর্যটক জানান, একটি ভবনের বিভিন্ন তলায় প্লাইউড বা বোর্ড দিয়ে ছোট ছোট কক্ষ বানিয়ে একাধিক গেস্টহাউস চালানো হচ্ছে যেগুলোর অধিকাংশেরই বৈধ লাইসেন্স নেই। অগ্নিকাণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা মো. উজ্জ্বল খান জানান, হোটেলের সরু পথ এবং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সংযোগের অভাব বিপদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি জানান, আগুন লাগার পর বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় প্রাণ বাঁচান। এই ঘটনার পর কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগ নড়েচড়ে বসেছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে হোটেলগুলোর বৈধতা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে হোটেলের ইজারাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত হোটেল ছেড়ে বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন।
কলকাতার মীর্জা গালিব স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশি পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর এলাকার অবৈধ হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।


0 Comments