ভারতে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে এক ছাত্রীর করা আবেদন খারিজ করে এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন সর্বভারতীয় মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এই প্রতিক্রিয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ধর্মীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বিচারপতিদের কে দিয়েছে? ওয়েইসির দাবি, এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই নির্দেশ ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত এবং এর ফলে সংবিধান প্রদত্ত মতপ্রকাশ ও ধর্ম পালনের অধিকার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ এক ছাত্রীর আবেদন খারিজ করে দেন। ওই ছাত্রী ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে হিজাব পরে পড়াশোনা করলেও একাদশ শ্রেণিতে ওঠার পর কর্তৃপক্ষ তাতে আপত্তি জানায়। এরপর ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই ছাত্রী। তবে আদালত আবেদনটি খারিজ করে জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব শৃঙ্খলা ও পোশাকবিধি নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থী তা পরিবর্তনের দাবি করতে পারে না। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিদ্যালয়ের ভেতরে হিজাব পরা ইসলামের অপরিহার্য ধর্মীয় প্রথা—এমন কোনো প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।
এই নির্দেশের পর ওয়েইসি বলেন, মেয়েরা মাথায় হিজাব পরে, মনে নয়। সমতার অর্থ সবার ওপর একই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া নয়। ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসকে সম্মান না করে পোশাকবিধি চাপিয়ে দেওয়া হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ওয়েইসি আরও বলেন, ধর্মীয় আচার পালনের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে বর্তমানে সর্বোচ্চ আদালতে বিচার চলছে। শবরীমালা মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় প্রথা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে উচ্চ আদালতের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। এছাড়া হিজাবের কারণে মুসলিম মেয়েদের শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং উত্তরপ্রদেশে তাদের শিক্ষার সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এলাহাবাদ হাইকোর্ট কর্তৃক হিজাব পরার আবেদন খারিজের নির্দেশের সমালোচনা করেছেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। তিনি একে ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে অভিহিত করে মুসলিম ছাত্রীদের শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


0 Comments