ভেনেজুয়েলায় গত জুনে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্কারী জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) দেশটির জাতীয় সংসদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ প্রাণহানির এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ২৪ জুন ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী এই ভূমিকম্প দুটি আঘাত হেনেছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
ভূমিকম্পের প্রভাবে দেশটির উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ২০০টি ভবন ধসে পড়েছে। লা গুয়াইরার গভর্নর জোসে আলেজান্দ্রো তেরান জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখোঁজের এই সংখ্যা ১০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন ছাড়াও ১৬ হাজার ২০০টিরও বেশি স্থাপনা ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে লা গুয়াইরা ও কারাকাস অঞ্চলের প্রায় ২৪ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রমে ঠাঁই নিয়েছেন।
বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের আবাসন সংকট নিরসনে ভেনেজুয়েলার আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি একটি নতুন আইন অনুমোদন করেছেন। এই আইনের মাধ্যমে আগের ভাড়া-বিরোধী আইন বাতিল করে বাড়ি ভাড়া নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, প্রায় ৪ লাখ বাড়িঘর এই নতুন আইনের আওতায় আসবে, যা ভাড়াটিয়া ও মালিক উভয়ের জন্যই ইতিবাচক হবে। এছাড়া চলতি বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৪ হাজার এবং ২০২৭ সালের মধ্যে ১০ হাজার বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে দেশটি পরিচালিত হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলায় গত জুনের ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে নতুন আইন পাস করেছে দেশটির সরকার।


0 Comments