নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ১৫৭ জন এবং তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও অন্তত ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ বিদেশি পর্যটক। আল জাজিরার বরাত দিয়ে নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, রসুয়া, নুয়াকোটে, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুঁ এবং নওয়ালপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় এবং বাকিরা অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে লেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথর ধসে পড়ার ফলে এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, নদীর উজানে প্রতিবন্ধকতা থাকায় আবারও বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে নেপাল সীমান্তবর্তী ভারতের বিহার ও উত্তর প্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে নেপালের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন। তবে পানির উচ্চতা না কমা পর্যন্ত হেলিকপ্টার ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এদিকে চীন দুর্গত এলাকায় ৫৭৪ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে, যদিও কাদা ও পলি উদ্ধার কাজে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কাঠমান্ডুর সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং দক্ষিণ কোরিয়া একটি বিশেষ র্যাপিড-রেসপন্স টিম পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েকশ বিদেশি পর্যটক। দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল ও চীনের উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।


0 Comments