জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ জবানবন্দি দিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষক মুহাম্মদ রিদওয়ান হাসান। রোববার ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসান তাইম এবং মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর চালানো নৃশংসতার বিবরণ তুলে ধরেন।
রিদওয়ান হাসান জানান, গত ১৯ জুলাই জুমার নামাজের সময় যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসার মসজিদে পুলিশ টিয়ার শেল ও গুলি ছুড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে পুলিশের গুলিতে যাত্রাবাড়ীসহ সারাদেশে বহু মাদ্রাসাছাত্র নিহত হন। এর আগে ১৮ জুলাই রাতে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আহমদ আব্দুল্লাহকে পুলিশ গুলি করার পর সাঁজোয়া যান দিয়ে পিষ্ট করে হত্যা করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরও জানান, ২০ জুলাই কারফিউ শিথিলের সময় কাজলা এলাকায় পুলিশ সদস্য ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ইমাম হাসান তাইমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়া ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরের মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৬০ জন নিহত হওয়ার তথ্য দেন এই সাক্ষী।
এই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ৯ জন পলাতক থাকলেও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহদাত আলী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জবানবন্দি শেষে রিদওয়ান হাসান এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসাছাত্র ও পুলিশ কর্মকর্তার ছেলেকে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী রিদওয়ান হাসান। তিনি ঘটনার দিনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো নৃশংসতার বিবরণ তুলে ধরে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।


0 Comments