চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা লাভ করবে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কাজ শুরু হবে এবং সরকারি তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের কাছে এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ড-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পঞ্চম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মানবিক কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে নিম্ন আয়ের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকারি চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, উচ্চমূল্যের সঞ্চয়পত্রধারী বা গাড়ির মালিকদের এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার অযোগ্য পরিবারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে। সোনালী, জনতা ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) ৩ হাজার ৭২টি শাখার মাধ্যমে এই অর্থ বিতরণ করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এই সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আগামী ৫ বছরে এই কর্মসূচির জন্য মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
দেশের ৪১ লাখ নিম্ন আয়ের পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন উপকারভোগীরা। আগামী ১৬ আগস্ট এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।


0 Comments