ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

যুক্তরাজ্যের অর্থায়ন বন্ধ: সুন্দরবনে জলবায়ু সহনশীলতা প্রকল্প মাঝপথে থমকে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় উপকূলবাসী

যুক্তরাজ্যের অর্থায়ন বন্ধ: সুন্দরবনে জলবায়ু সহনশীলতা প্রকল্প মাঝপথে থমকে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় উপকূলবাসী

যুক্তরাজ্য সরকারের বৈদেশিক সহায়তার বাজেট হ্রাসের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সুন্দরবন এলাকায় পরিচালিত একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত মেয়াদের দুই বছর আগেই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের বরাতে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের হাজার হাজার দরিদ্র মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ ২০২৩ সাল থেকে সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীলতা ও জীবিকায়ন বিষয়ক এই প্রকল্পটি পরিচালনা করে আসছিল। ২০২৮ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল প্রান্তিক পরিবারগুলোকে দুর্যোগের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপযোগী করে তোলা। এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল আধুনিক কৃষি, মাছ চাষের প্রযুক্তি এবং আগাম সতর্কবার্তা চালুর মতো কার্যক্রম চলছিল। তবে অর্থায়নকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ২০২৬ সালের মধ্যে নির্ধারিত ২২ লাখ পাউন্ড বরাদ্দের বড় অংশই কাটছাঁট করা হয়েছে।

সংস্থাটির কর্মকর্তা তামান্না রহমান জানান, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ৫৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য থাকলেও বাজেট সংকটে তা ৩৭ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মাত্র দুই-তিন মাসের নোটিশে প্রকল্প গুটিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন, কারণ এতে স্থানীয় সরকারের কাছে কার্যক্রম হস্তান্তরের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। উপকূলের ভৌগোলিক বাস্তবতায় সরাসরি সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো বেশ দুরূহ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রকল্পটির সুফলভোগী কালাবগী গ্রামের বাসিন্দা বিনা মণ্ডল ও বসন্তী মণ্ডল জানান, সৌরবিদ্যুৎ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সহায়তায় তাদের আয় বাড়ছিল এবং জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসছিল। হঠাৎ প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তে তারা পুনরায় পূর্বের দুর্দশায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

এদিকে, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে ‘অমানবিক’ বলে অভিহিত করেছেন উন্নয়ন সংস্থাগুলোর নেটওয়ার্ক ‘বন্ড’-এর প্রধান রোমিলি গ্রিনহিল। তিনি অবিলম্বে এই সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আন্তর্জাতিক সহায়তার হার ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। তবে যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) জানিয়েছে, তারা সরাসরি অনুদান কমিয়ে এখন সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংক্ষেপে:
যুক্তরাজ্যের বাজেট কাটছাঁটের কারণে সুন্দরবন এলাকায় পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
যুক্তরাজ্যের অর্থায়ন বন্ধ: সুন্দরবনে জলবায়ু সহনশীলতা প্রকল্প মাঝপথে থমকে যাওয়ায় অনিশ্চয়তায় উপকূলবাসী

0 Comments