রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তেজপাতা চাষে এক নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। এক সময়ের দিনমজুর গোলজার হোসেনের হাত ধরে শুরু হওয়া এই চাষ এখন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়। মাত্র ১৪টি চারা দিয়ে শুরু করা গোলজারের অনুপ্রেরণায় এখন এক হাজারের বেশি কৃষক তেজপাতা চাষ করে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, কাউনিয়ার ছয়টি ইউনিয়নের ৮৮৩ হেক্টর জমিতে বর্তমানে তেজপাতার চাষ হচ্ছে। বাজেমজকুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব গোলজার হোসেন জানান, অভাবের তাড়নায় চতুর্থ শ্রেণিতেই পড়াশোনা ছেড়ে অন্যের বাড়িতে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। পরে বগুড়া থেকে ১৪টি তেজপাতার চারা কিনে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। দুই বছর পর সেই পাতা বিক্রি করে পাঁচ হাজার টাকা আয় হলে তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। এরপর তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে দুই একর জমিতে মসলা চাষ করে বছরে তার আয় প্রায় চার লাখ টাকা।
টেপামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হানিফ আলী ও চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম জানান, গোলজার হোসেনকে দেখে এলাকার ৯৫ শতাংশ মানুষ এখন তেজপাতা ও মসলা চাষের সঙ্গে যুক্ত। কৃষকরা জানান, এক একর জমিতে তেজপাতা চাষে খরচ হয় মাত্র ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা, অথচ বছরে আয় হয় দেড় লাখ টাকার বেশি। এছাড়া একই জমিতে সাথি ফসল হিসেবে আদা ও হলুদ চাষ করে বাড়তি মুনাফা পাওয়া যায়।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এখন ধানি জমিতেও তেজপাতা চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম জানান, মান ভালো হওয়ায় দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো এখান থেকে তেজপাতা সংগ্রহ করছে।
রংপুরের কাউনিয়ায় মাত্র ১৪টি চারা থেকে শুরু করে তেজপাতা চাষে সফল হয়েছেন গোলজার হোসেন। তার হাত ধরে এখন উপজেলার এক হাজারেরও বেশি কৃষক স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

0 Comments