ভারতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, বিশেষ করে বাংলাভাষী মুসলিম ও দলিত সম্প্রদায়ের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিপীড়নের খবরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি (ইউএনসিইআরডি)। সংস্থাটি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভারতে বর্ণবাদী সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই দীর্ঘমেয়াদি আটকের মতো ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা, বাংলাভাষী মুসলিম এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের লক্ষ্য করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়েও সতর্ক করেছে কমিটি। এছাড়া আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নীতি লঙ্ঘন করে শরণার্থীদের জোর করে ফেরত পাঠানোর ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের এই পর্যবেক্ষণগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষপূর্ণ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেনেভায় অনুষ্ঠিত পর্যালোচনায় ভারত তার সাংবিধানিক সুরক্ষা ও শক্তিশালী আইনি কাঠামোর বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে কার্যকর হওয়া বর্ণবৈষম্য বিলোপবিষয়ক সনদের বাস্তবায়ন তদারকি করে ১৮ জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞের এই প্যানেল।
ভারতে সংখ্যালঘু ও মুসলিমদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিপীড়নের খবরে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের বর্ণবৈষম্য বিলোপ কমিটি। তবে এই অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে দিল্লি।


0 Comments