হলিউডের মূলধারার সিনেমায় যৌনতা ও সম্পর্কের চিত্রায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত কয়েক দশকে বড় পর্দায় যৌন দৃশ্যের উপস্থিতি কমলেও ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোতে যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা ও সম্পর্ককে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। চলচ্চিত্র সমালোচক ট্রাভিস উডসের মতে, সিনেমা আবারও যৌনতানির্ভর হয়ে উঠছে, তবে তা নব্বইয়ের দশকের মতো কেবল প্রদর্শনের জন্য নয়, বরং চরিত্রের মনস্তত্ত্ব ও আত্মপরিচয় অনুসন্ধানের মাধ্যম হিসেবে।
এই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ নির্মাতা গ্রেগ আরাকির ‘আই ওয়ান্ট ইয়োর সেক্স’। সিনেমাটি শিল্পজগতের এক তরুণ ইন্টার্ন এলিয়ট এবং তার নিয়োগকর্তা এরিকা ট্রেসির মধ্যকার জটিল সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নির্মিত। আরাকি জানান, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে যৌনতা নিয়ে থাকা সংকোচ ও ভুলের ভয়কে তিনি তার কাজের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, হালিনা রেইনের ‘বেবিগার্ল’ সিনেমায় নিকোল কিডম্যান একজন ক্ষমতাধর করপোরেট নির্বাহীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যেখানে তার ব্যক্তিগত জীবনের আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষমতার সমীকরণ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
ব্রিটিশ নির্মাতা হ্যারি লাইটনের ‘পিলিয়ন’ এবং অলিভিয়া ওয়াইল্ডের ‘দ্য ইনভাইট’ সিনেমাগুলোতেও যৌনতা ও সম্পর্কের ভিন্ন ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। ‘দ্য ইনভাইট’ সিনেমায় সরাসরি যৌন দৃশ্য না থাকলেও দাম্পত্য জীবনের সংকট ও বহুগামী সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয়েছে। সমালোচক জুরডেইন সার্লস মনে করেন, এসব সিনেমার চরিত্রগুলো তাদের যৌন কল্পনার মাধ্যমেই মূলত নিজেদের আত্মপরিচয় খুঁজে পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে নারী ও কুইয়ার নির্মাতাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌনতাকে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে আবেগ ও ক্ষমতার প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে। এছাড়া শুটিং সেটে ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’-দের উপস্থিতি অভিনয়শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দৃশ্যগুলোকে আরও পরিকল্পিত ও অর্থবহ করে তুলছে। সিনেমাগুলোতে যৌনতাকে কেবল আনন্দ হিসেবে নয়, বরং এর সাথে জড়িত অস্বস্তি, ঝুঁকি এবং মানসিক আঘাতকেও বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।
হলিউড সিনেমায় আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে যৌনতা ও সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। ২০২৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বিভিন্ন সিনেমায় যৌনতাকে কেবল উত্তেজনা নয়, বরং চরিত্রের মনস্তত্ত্ব ও আত্মপরিচয়ের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।


0 Comments