জুমার খুতবা চলাকালীন অনেক মসজিদে দানবাক্স বা ব্যাগ ঘুরিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে দেখা যায়। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে খুতবা চলাকালীন এ ধরনের কাজ কতটুকু গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা। পবিত্র কোরআনের সুরা জুমুআর ৯ নম্বর আয়াতে জুমার দিনে আজান হওয়ার পর দুনিয়াবি সব কাজ ছেড়ে আল্লাহর স্মরণের দিকে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামি ফকিহদের মতে, এখানে আল্লাহর স্মরণ বলতে খুতবা ও নামাজ উভয়কেই বোঝানো হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা চলাকালীন সম্পূর্ণ নীরবতা পালন ও মনোযোগ ধরে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে উল্লেখ আছে, খুতবার সময় কাউকে ‘চুপ থাকো’ বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হয়। তাই খুতবা চলাকালীন টাকা বের করা বা দানবাক্স আদান-প্রদান করা মনোযোগ নষ্ট করার শামিল। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ীর মুহাদ্দিস ফয়জুল্লাহ রিয়াদ জানান, খুতবা শোনা মুসল্লিদের জন্য ওয়াজিব, আর দান করা নফল বা মুস্তাহাব। কোনো নফল কাজ করতে গিয়ে ওয়াজিব আমল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দান করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ হলেও এর জন্য সঠিক সময় ও পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। খুতবার মর্যাদা রক্ষায় মসজিদ কর্তৃপক্ষের উচিত খুতবা শুরু হওয়ার আগে অথবা নামাজ শেষ হওয়ার পর অর্থ সংগ্রহ করা। এছাড়া মসজিদের প্রবেশপথে স্থায়ী দানবাক্স রাখা বা জুমার আগে ঘোষণা দিয়ে দান সংগ্রহের বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে খুতবার প্রতি মুসল্লিদের মনোযোগ অক্ষুণ্ন থাকার পাশাপাশি দানের উদ্দেশ্যও সফল হবে।
জুমার খুতবা চলাকালীন মসজিদে দানবাক্স ঘোরানো বা অর্থ সংগ্রহ করা নিয়ে শরিয়তের বিধান কী? খুতবার গুরুত্ব ও আদব রক্ষায় ইসলামি চিন্তাবিদদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সঠিক নিয়ম জেনে নিন।


0 Comments