জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে কেবল ‘বিপ্লব’ বা ‘গণ-অভ্যুত্থান’ হিসেবে না দেখে একে এলিট তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ ড. সফিকুর রহমান ও অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রাহমানের এক যৌথ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এই পরিবর্তন মূলত প্রতিষ্ঠিত এলিট এবং উদীয়মান এলিট-আকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে ক্ষমতা, মর্যাদা ও প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজির পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত প্রতিযোগিতার ফল।
গবেষকদের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের বড় রাজনৈতিক আলোড়নগুলোর মূলে ছিল এলিট চক্রাবর্তন, কাঠামোগত বৈষম্য ও সামাজিক উত্তরণের আকাঙ্ক্ষা। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব রূপান্তর সমাজ-অর্থনীতির মৌলিক পরিবর্তনের চেয়ে বিদ্যমান এলিট বিন্যাসের আংশিক বা পূর্ণ পুনর্সংস্থান ঘটিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যবিত্তের বিস্তার, নগরায়ণ এবং প্রযুক্তির প্রসার এলিট-আকাঙ্ক্ষীদের সংখ্যা ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি প্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান উভয় এলিট পরিসরে প্রভাব বজায় রেখেছে। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি মূলত আকাঙ্ক্ষী এলিটদের প্রতিনিধিত্ব করছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এলিট বিন্যাস তৈরির পথ উন্মোচিত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
প্রবন্ধের উপসংহারে বলা হয়েছে, দেশে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য রাজনীতি ও অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ অপরিহার্য। রুদ্ধ ও বদ্ধ এলিট বিন্যাস ভেঙে একটি গতিশীল ব্যবস্থা তৈরি করা না গেলে ভবিষ্যতে নতুন অস্থিরতা এবং পরবর্তী এলিট আলোড়নের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিকে এলিট তত্ত্বের আলোকে বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। এটি মূলত প্রতিষ্ঠিত ও উদীয়মান এলিটদের ক্ষমতার লড়াই। স্থিতিশীলতার জন্য রাজনীতির গণতন্ত্রায়ণ জরুরি।

0 Comments