শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পর্যাপ্ত ঘুমের গুরুত্ব অপরিসীম। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের ঘুমের অভাব তাদের স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। ৮ থেকে ১১ বছর বয়সী ৩৭ জন শিশুর ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমায়, তাদের শরীর ও স্বাস্থ্য তুলনামূলক ভালো থাকে।
গবেষণার অংশ হিসেবে শিশুদের দুই ভাগে ভাগ করে তাদের ঘুমের সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়। এক সপ্তাহে তাদের প্রতিদিন দেড় ঘণ্টা বেশি এবং পরবর্তী সপ্তাহে দেড় ঘণ্টা কম ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয়। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তাদের ঘুমের সময় নিরূপণের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারের তালিকাও সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া গবেষকরা শিশুদের রক্তে লেপটিন নামক এক বিশেষ হরমোনের উপস্থিতি পরীক্ষা করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, লেপটিন হরমোন মূলত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। রক্তে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে মেদ জমার প্রবণতা তৈরি হয়। পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব শিশু পর্যাপ্ত ঘুমিয়েছে, তাদের রক্তে লেপটিনের মাত্রা কম ছিল এবং তারা পরিমিত খাবার গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, ঘুমের ঘাটতি থাকা শিশুরা বেশি খাবার গ্রহণ করায় তাদের ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে।
শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ছে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। ঘুমের ঘাটতি হলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের প্রভাবে শিশুরা অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করে যা দ্রুত ওজন বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


0 Comments