ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৫৮ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দেশটির সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থান ও সেনা ক্যাম্প লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। একই সময়ে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরান এলাকায় হুথিদের পৃথক হামলায় ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একে অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি আরবের সমর্থনে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা এই হামলা চালিয়েছেন। ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, তারা উপযুক্ত সময়ে ও স্থানে এর কড়া জবাব দেবে।
এদিকে, সৌদি আরবের নাজরান প্রদেশে হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, আহত ১১ জনের মধ্যে সাতজন সৌদি নাগরিক এবং বাকিরা ইয়েমেনি, মিসরীয় ও পাকিস্তানি নাগরিক। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে। আল-মালিকি হুথিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
অন্যদিকে, একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে থাকা হুথি ও ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো, বন্দর ও বিমানবন্দরে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালাতে পারে। তিনি জানান, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যে এমন আশঙ্কার কথা জানা গেছে। বর্তমানে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিবিড় নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে সৌদি আরব বর্তমানে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের বিষয়ে আলোচনা করছে বলে জানা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই সম্ভাব্য সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইয়েমেনে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৫৮ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন। একই সাথে সৌদি আরবের নাজরানে হামলায় আহত হয়েছেন শিশুসহ ১১ জন বেসামরিক নাগরিক। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা।


0 Comments