ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

পেকুয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার: টৈটংয়ে শিশুর মৃত্যুর পর বাড়ছে উদ্বেগ

পেকুয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার: টৈটংয়ে শিশুর মৃত্যুর পর বাড়ছে উদ্বেগ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে পাহাড় কেটে ও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শত শত বসতি গড়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলেই টৈটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে পাহাড়ধসের আতঙ্ক দেখা দেয়। সম্প্রতি টৈটং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে এক শিশুর প্রাণহানির পর এই ঝুঁকি ও জননিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল ও অসাধু চক্রের মদদে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে এসব বসতি নির্মাণ করা হয়েছে।

তথ্যমতে, টৈটং ইউনিয়নের ঢালারমুখ, আলিম্যারজিরি, মধুখালী, ঝুমপাড়া, কেরুনছড়ি ও সরকারমোড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ঘেঁষে অসংখ্য ঘরবাড়ি তৈরি হয়েছে। একইভাবে বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী, চাকমার ডুরি ও শিলখালী ইউনিয়নের সাপেরঘারা ও জারুলবুনিয়াসহ বেশ কিছু এলাকায় পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। পহরচাঁদা বিট কর্মকর্তা সরওয়ার জানান, তার বিটের আওতাধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রায় ৪০০টি বসতি রয়েছে, যার একটি বড় অংশ শিলখালী এলাকায়। বারবাকিয়া বিট কর্মকর্তা সজিব জানান, ওই এলাকায় অন্তত ৩০টি পরিবারকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করা হয়েছে।

টৈটং বিট কর্মকর্তা আবদুল মোমিন মোতালেব জানান, টৈটং এলাকায় প্রায় ৪০০টি বসতি থাকলেও কতটি চরম ঝুঁকিতে আছে তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল আলিম জানান, বনাঞ্চল ও পাহাড়ঘেঁষা অধিকাংশ গ্রামই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পেকুয়া বারবাকিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খালেকুজ্জামান বলেন, পাহাড়ে বসবাসকারীদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। পেকুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন জানান, পাহাড়ের উচ্চতা কম হলেও কিছু স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নির্মাণ করা হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে অনেক বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে সরতে আগ্রহী নন। তিনি আরও জানান, পাহাড়ধসে নিহত শিশুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল মাইকিং নয়, বরং অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো দ্রুত পুনর্বাসন করা প্রয়োজন।

সংক্ষেপে:
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ করায় বাড়ছে ধসের ঝুঁকি। সম্প্রতি টৈটংয়ে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পেকুয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার: টৈটংয়ে শিশুর মৃত্যুর পর বাড়ছে উদ্বেগ

0 Comments