সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ এবং ১ থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও জুলাই থেকে এটি কার্যকর ধরা হয়েছে, তবে প্রজ্ঞাপন জারি ও কারিগরি প্রস্তুতির কারণে বাড়তি অর্থ হাতে পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি ইতিমধ্যে চার দফা বৈঠক শেষ করেছে এবং শিগগিরই তাদের সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের সক্ষমতা বিবেচনা করে দুই ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাবটি গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথম বছর মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছর ভাতা সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বললেও দুর্নীতি রোধে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি ছিল, তবে বিগত সরকারের সময়ের লুটপাটে জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ১ জুলাই থেকে নবম পে-স্কেল কার্যকর হয়েছে। এতে বেতন সর্বোচ্চ ১৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে বাড়তি টাকা হাতে পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে।


0 Comments