টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। উপজেলার অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। বন্যার পানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া থানা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক ও বসতবাড়ি বুকসমান পানিতে তলিয়ে আছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকায় প্রবল স্রোতে পানি প্রবাহিত হওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমতের দোকান এলাকাতেও পানি ওঠায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশুদ্ধ পানির সংকট ও খাদ্যভাব দেখা দেওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া কৃষি জমি ও মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে উদ্ধার কাজ ও ত্রাণ সহায়তা দিতে ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকরা প্রস্তুত রয়েছেন। দুর্গতদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


0 Comments