সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, পাটলাই ও রক্তি নদীতে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। টানা তিন দিন ধর্মঘট পালনের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আন্দোলনরত সংগঠনগুলোর দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
উপজেলা প্রশাসনের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর ঘাটে প্রতি টন পাথরের টোল ৮০ পয়সা এবং প্রতি ফুট বালুর টোল ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ৩০ টাকা এবং খাস-কালেকশনে পাথর প্রতি টন ১ টাকা ৭০ পয়সা ও বালু ৫০ পয়সা ধার্য করা হয়। পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএ প্রতি টনে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং কামালপুর ও ডাম্পের বাজারের দুটি ঘাটে ১০০ টনের জন্য ৫০০ টাকা, ২০০ টনের জন্য ১০০০ টাকা এবং এর অধিক ওজনের জন্য ২০০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি কামাল মিয়া এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রক্তি নদীতে চলন্ত অবস্থায় কোনো টাকা দিতে হবে না। তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রশিদ ছাড়া টাকা আদায় করা হলে পুনরায় কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে। এদিকে সচেতন মহলের মতে, এসব ঘাটে মালামাল ওঠানামা না হলেও ঘাটের নামে চাঁদাবাজি হয়, যা বন্ধ হওয়া জরুরি।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া জানান, নদী পথে টোল আদায় নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরসন করা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী নতুন টোল হার নির্ধারণ করায় ধর্মঘটের অবসান ঘটেছে। নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন দিন পর নৌ পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনের সাথে বৈঠকে নতুন টোল হার নির্ধারণের পর নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা পুনরায় কাজে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন।


0 Comments