বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াইয়ের আগে আবারও সামনে চলে এসেছে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক দুই গোলের পর থেকে এই দ্বৈরথ ভিন্ন মাত্রা পায়, যা ম্যারাডোনা নিজেই তার আত্মজীবনীতে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাবলো কির্নো দেশটির দৈনিক ‘লা নাসিওন’-এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে ফকল্যান্ডের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি সেখানে বসবাসকারীদের ‘কৃত্রিম বসতি স্থাপনকারী’ হিসেবে অভিহিত করে দ্বীপপুঞ্জটি হস্তান্তরের বিষয়ে ব্রিটেনের সাথে আলোচনার দাবি জানান। কির্নো ২০১৩ সালের গণভোটকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের দখলদারি কখনো সার্বভৌমত্বে রূপ নিতে পারে না। তার মতে, এটি আর্জেন্টিনার আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে খণ্ডবিখণ্ড করতে পারবে না।
ভৌগোলিকভাবে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার উপকূল থেকে মাত্র ৩০০ মাইল দূরে হলেও ব্রিটেন থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৮ হাজার মাইল। ১৮৩৩ সাল থেকে ব্রিটিশ শাসনে থাকা এই ভূখণ্ড নিয়ে ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে ৭৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। ২০১৩ সালের এক গণভোটে দ্বীপের ৯৯.৮ শতাংশ বাসিন্দা ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে মত দিলেও আর্জেন্টিনা সেই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়ারুয়েলও এই ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ভিয়ারুয়েল এমনকি দ্বীপে থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের ইংল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তাদের মালভিনাসের জন্য বিশ্বকাপ জেতার গান গাইতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু দুই দেশের উত্তেজনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াইয়ের আগে আবারও আলোচনায় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ। ঐতিহাসিক এই বিরোধ নিয়ে সরব হয়েছেন আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা। মাঠের লড়াইয়ের আগে উত্তপ্ত দুই দেশ।

0 Comments