ব্রেকিং নিউজ

ব্রেকিং নিউজ

ফুটবল কি কেবলই বিনোদন নাকি রক্তপাতহীন যুদ্ধ? জর্জ অরওয়েলের দর্শনে খেলার আড়ালে উগ্র জাতীয়তাবাদ

ফুটবল কি কেবলই বিনোদন নাকি রক্তপাতহীন যুদ্ধ? জর্জ অরওয়েলের দর্শনে খেলার আড়ালে উগ্র জাতীয়তাবাদ

বিখ্যাত সাহিত্যিক জর্জ অরওয়েলের মতে, ফুটবল কেবল একটি সাধারণ খেলা নয়, বরং এটি একটি রক্তপাতহীন যুদ্ধ। ১৯৪৫ সালে যুক্তরাজ্য ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে ডায়নামো মস্কো এবং আর্সেনালের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সেই ম্যাচটি বন্ধুত্বের বদলে উগ্র জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা ও নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জন্ম দেয়। এই ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে অরওয়েল তার বিখ্যাত প্রবন্ধ ‘দ্য স্পোর্টিং স্পিরিট’-এ উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলো প্রায়ই শত্রুতার নতুন বারুদ তৈরি করে।

অরওয়েল মনে করতেন, প্রকৃত খেলাধুলার সাথে ন্যায়পরায়ণতার কোনো সম্পর্ক নেই; বরং এটি ঘৃণা, ঈর্ষা এবং দম্ভের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার মতে, দর্শকরা এক পক্ষকে বিজয়ী এবং অন্য পক্ষকে অপমানিত হতে দেখতে চায়। বর্তমান সময়ে ফুটবলের অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক পরিবর্তন এলেও অরওয়েলের সেই উদ্বেগের জায়গাটি এখনো প্রাসঙ্গিক। লেখক ও গবেষক মিনহাজুল ইসলাম তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন যে, আধুনিক ফুটবল এখন করপোরেট শক্তির নিয়ন্ত্রণে। যেখানে ফুটবলের আদি উদ্দেশ্য ছিল ভ্রাতৃত্ববোধ, সেখানে আজ একক শ্রেষ্ঠত্বের জয়গান গাওয়া হয়।

অরওয়েলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফুটবল একটি বহুত্ববাদী প্রপঞ্চ হলেও বর্তমানে এটি ‘একত্ববাদী ত্রাতা’ বা মেসিয়াহ খোঁজার মাধ্যমে এক ধরনের রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বে রূপ নিয়েছে। উগ্র জনতা এবং জাতীয়তাবাদের এই মিশেল ফুটবলকে তার আদি ও অকৃত্রিম সৌন্দর্য থেকে বিচ্যুত করে এক নিঃসঙ্গ অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। লেখকের মতে, বৈষম্যের যন্ত্রণা লাঘব করতে যে ক্রীড়ার জন্ম হয়েছিল, তা আজ যান্ত্রিক ও একক মস্তক-মুকুটের শৃঙ্খলে বন্দী।

সংক্ষেপে:
ফুটবল কি কেবলই ভ্রাতৃত্বের মাধ্যম নাকি উগ্র জাতীয়তাবাদের হাতিয়ার? জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী দর্শন ও আধুনিক ফুটবলের করপোরেট বাস্তবতার এক গভীর বিশ্লেষণ। জেনে নিন খেলার নেপথ্যের অজানা রাজনীতি।
ফুটবল কি কেবলই বিনোদন নাকি রক্তপাতহীন যুদ্ধ? জর্জ অরওয়েলের দর্শনে খেলার আড়ালে উগ্র জাতীয়তাবাদ

0 Comments