কক্সবাজারের টেকনাফে সংঘটিত আলোচিত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে। বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে রায় ঘোষণা করা হলেও মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর-বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা। এই ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ এবং পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ছয়জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল। পরবর্তীতে হাইকোর্টও নিম্ন আদালতের এই রায় বহাল রাখেন। তবে আসামিপক্ষ আপিল করায় বর্তমানে মামলাটি আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে, যার ফলে এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রদীপ কুমার দাশকে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত চূড়ান্ত রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়ে বলেন, গত ছয় বছর ধরে তারা সত্য প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও মানসিক চাপের মধ্যেও তারা আইনের প্রতি আস্থা রেখেছেন। তাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
বাদীপক্ষের তৎকালীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলায় মোট ৬৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। উপস্থাপিত সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি আশাবাদী যে সুপ্রিম কোর্টেও নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকবে। আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এখন তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষ।
মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের ছয় বছর পার হলেও মামলাটি বর্তমানে আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। দ্রুত রায় কার্যকরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার।


0 Comments