ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সে দেশের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ঢাকা থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ অনুরোধটি ভারতের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে বলেও জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফেরার ইঙ্গিত দিলে আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান জানান, তিনি দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হতে পারে। এদিকে ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ভারতের সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছে যে, সরকার যেন এই সংবেদনশীল পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এবং মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রেখে পরিচালনা করে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। তাই দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছর শেষ হতে চলায় দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার আবেদনটিও আইনি পর্যালোচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


0 Comments