চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় জুলাই মাসের মাত্র ২১ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ৬০৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৩০৫ জনই শনাক্ত হয়েছেন জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশ নগরের বাইরের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এবারের ডেঙ্গুর উপসর্গে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট এ এস এম লুৎফুল কবির জানান, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে এবার উচ্চমাত্রার জ্বর হচ্ছে না এবং শরীরে র্যাশও কম দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তে বমি, তীব্র পেটব্যথা, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা এবং লিভার ও কিডনির জটিলতা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। তিনি সাধারণ জ্বর মনে করে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ৫৯ জন এবং কর্ণফুলী উপজেলায় ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কর্ণফুলীর বাসিন্দা শাহ আলম জানান, হঠাৎ জ্বর ও প্রচণ্ড শরীর ব্যথার পর পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। তবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও বাসাবাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে জরুরি।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম জানান, নগরের আটটি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ টিম মশা নিধনে কাজ করছে। লার্ভিসাইড ছিটানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর উপসর্গে পরিবর্তন আসায় বাড়ছে ঝুঁকি। জুলাই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা আগের ছয় মাসকে ছাড়িয়েছে। চিকিৎসকরা জ্বর অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষার পরামর্শ দিচ্ছেন। সচেতন থাকুন ও সুস্থ থাকুন।


0 Comments