যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর মেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ২০২৬ থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত মোট ৭৮টি কার্গো এলএনজি আমদানির এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনস্থ সংস্থা পেট্রোবাংলা এই আমদানি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, প্রতি বছর ৬টি করে কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে গানভর ইউএসএ। বর্তমানে দেশে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, গানভরকে শুরুতেই ১৩ বছরের জন্য চূড়ান্ত করা হচ্ছে না। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তাদের এলএনজি আসা শুরু হলে পারফরম্যান্স যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে এবং সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসরণ করেই এই আমদানি প্রক্রিয়া চলছে।
তবে বেসরকারি কোম্পানির সাথে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিপিপিএর সাবেক সিইও ফারুক হোসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকার যদি গানভরকে মনোনীত না করে থাকে, তবে জিটুজির এই ধরনটি ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। বর্তমান বিশ্ববাজারে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ২১ থেকে ২২ ডলারের মধ্যে রয়েছে, যা বিবেচনায় নিয়ে এই বিশাল অংকের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসি থেকে ১৩ বছরে ৭৮ কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে প্রতি বছর ৬টি করে কার্গো আসবে।


0 Comments