সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে জানান, দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুলকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি দ্রুত নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
ঘটনা তদন্তে জামায়াতের খুলনা অঞ্চলের পরিচালক ইজ্জত উল্লাহর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যেখানে সদস্য হিসেবে ছিলেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবদুল খালেক। তদন্ত কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে জানায়, বিয়ের আগে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করে তিনি পর্দা লঙ্ঘন করেছেন এবং এতে সংগঠনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও গাজী নজরুল দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে তাঁদের বিয়ে হয়েছে।
এদিকে বহিষ্কৃত এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। মামলায় গাজী নজরুল ছাড়াও আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোস্তাসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার এজাহারে ওবায়দুর অভিযোগ করেছেন, অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেনের মতে, দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হতে পারে, তবে বিষয়টি এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সাথে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলাও দায়ের করা হয়েছে।


0 Comments