বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে প্রায় দুইজনের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার আর্থিক সক্ষমতা নেই। জাতিসংঘের পাঁচটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন ইন দ্য ওয়ার্ল্ড ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালে দেশের প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ এই পুষ্টি সংকটের মুখোমুখি ছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের পর বাংলাদেশেই এই হার সবচেয়ে বেশি।
প্রতিবেদনে ‘স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকা’ বলতে প্রতিদিন মাথাপিছু ২ হাজার ৩৩০ কিলোক্যালরি শক্তি সরবরাহকারী খাবারকে বোঝানো হয়েছে। এর মধ্যে শর্করা, প্রাণিজ আমিষ, শাকসবজি, ফলমূলসহ মোট ছয়টি খাদ্যগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশে একজন মানুষের প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড়ের গড় খরচ ২০১৭ সালের ৩.০৯ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৪.৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় খাবারের ব্যয়ের দিক থেকে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পরেই বাংলাদেশের অবস্থান।
তবে ২০১৭ সালের তুলনায় পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য কিছুটা বেড়েছে। ২০১৭ সালে যেখানে ৬২.৮ শতাংশ মানুষের সামর্থ্য ছিল না, ২০২৫ সালে তা কমে ৩৮.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ২.৬৯ বিলিয়ন মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাড় করতে পারেননি, যার মধ্যে আফ্রিকার হার সবচেয়ে বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মো. রুহুল আমিন জানান, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার এখনো সাধ্যের বাইরে। বিশেষ করে মাছ, মাংস, দুধ ও ফলের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষ এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করতে পারছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে স্থানীয় বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়ে, কিন্তু দাম কমার ক্ষেত্রে সেই গতি দেখা যায় না।
বাংলাদেশে প্রায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। পুষ্টিকর খাবারের উচ্চমূল্যের কারণে নিম্নবিত্তরা হিমশিম খাচ্ছেন।


0 Comments