বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে সরকারি বাংলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০টি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেনারেল রিলিফ কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার দুর্গত মানুষের জন্য এই অর্থের পাশাপাশি ৩,৪৫০ মেট্রিক টন চাল দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ১,০৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিশুখাদ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
ড. মাহদী আমিন আরও জানান, জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের ৪৭ কিলোমিটার অংশ ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং এর দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার। ত্রাণ কার্যক্রমে প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদেরও মাঠে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকতে সরকার ১০টি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন জানান, ত্রাণ সহায়তা ও উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীসহ সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে।


0 Comments