কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়েছে। গত রবিবার (১২ জুলাই) এই সংঘাতের জেরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ৬০ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তিটি ভেস্তে গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির সামরিক ঘাঁটি কিশ দ্বীপে ১০টিরও বেশি শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। কিশ শহরের গভর্নর হোসেন আমির তৈমুরি জানিয়েছেন, রবিবার বিকাল থেকে দ্বীপে ১০ থেকে ১১টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলেও লক্ষ্যবস্তুগুলো সামরিক হওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরানের ড্রোন ও মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং গোলাবারুদ ডিপোসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে জোরালো হামলা চালিয়েছে। এই হামলা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বলেন, "আমরা তাদের ওপর নরক নামিয়ে এনেছি।" ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে তারা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে যে, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারে ইরানি হামলায় ৩ জন নাগরিক আহত হয়েছেন এবং জর্ডানে ৩টি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) ওমানেও আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ওমান সরকার তেহরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ওমানের মাটিতে দুই দেশের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলার ঘটনাটি ঘটে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় ভেঙে গেছে ৬০ দিনের শান্তি চুক্তি। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ওমানসহ একাধিক দেশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


0 Comments