জনগণের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জোনায়েদ সাকি জানান, আগামী ৪ আগস্ট সংস্কার কার্যক্রমের লক্ষ্যে গঠিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সই হওয়া ৩১ দফাসহ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কারের মাধ্যমেই একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের নতুন পথ তৈরি হবে।
নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের উত্থান নিয়ে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও এখন ধর্ম ও ভিন্ন বয়ানের মাধ্যমে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান। জোনায়েদ সাকি স্পষ্ট করেন যে, কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতেই নাগরিকের অধিকার হরণ করা যাবে না। এছাড়া প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা ও ন্যায্য অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর’ নীতি কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বিগত সময়ে আর্থিক খাত থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এখন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির কাজ চলছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের দায়িত্ব নিয়ে সরকার এলেও প্রত্যাশিত সংস্কার পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় মানুষ কিছুটা আশাহত। তিনি পুলিশ সংস্কার কমিশনসহ অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার দাবি জানান। অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই জাতীয় সনদ ও রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। শহীদ মিনারের সমাবেশে তিনি নতুন ফ্যাসিবাদের বিষয়েও সতর্ক করেন।


0 Comments